রাঙ্গামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে সশস্ত্র দুই পক্ষের মধ্যে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লাঙ্গলমারা এলাকায় এ গোলাগুলি চলে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) ও প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে এ গোলাগুলি হয়। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুরেও সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবুনিয়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলি হয়।
এদিকে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাজেক সড়কে অবরোধ শিথিল করে আন্দোলনকারীরা। তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। এক দিনের জন্য নয়, সড়ক স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার দাবিতে এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিঘীনালা বাসস্টেশনের লাইনম্যান স্বপন চাকমা।
অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকেরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির ব্যানারেও দিনব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।
অবরোধ শিথিল হলেও যানবাহন চলাচল না করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। সাজেকের অনেক মানুষ জুমচাষসহ বিভিন্ন কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। যান চলাচল বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছেন না তারা। ফলে খেতেই পেকে নষ্ট হচ্ছে এসব পণ্য।
ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাজেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা গোলাগুলি হয়েছে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।




