একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির। একদিকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে শোনা যায় শঙ্খ ও উলুধ্বনি। দুই ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম পালন করছেন পাশাপাশি। নামাজের সময় বন্ধ থাকে মন্দিরের বাদ্যযন্ত্র, নামাজ শেষে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে এভাবেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার বন্ধনে আবদ্ধ নড়াইলের মহিষখোলা গ্রামের দুটি উপাসনালয়।
নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা এলাকায় পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদ ও মহিষখোলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের অবস্থান পাশাপাশি। চিত্রা নদীর তীরঘেঁষা সড়কের পাশে একই আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা এই দুই উপাসনালয় দেখতে প্রতিদিনই আসেন অনেকে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে চলছে প্রতিমা ও মণ্ডপ সাজানোর প্রস্তুতি। আয়োজকেরা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের কাজে। অন্যদিকে, পাশের মসজিদে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। ধর্মীয় আচার পালনে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে পুরাতন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে প্রতিষ্ঠিত হয় রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদ। এর উত্তর-পূর্ব পাশে রয়েছে মহিষখোলা সার্বজনীন পূজা মন্দির। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে পাশাপাশি চলছে দুই ধর্মের উপাসনা।
মন্দিরে পূজা দিতে আসা দিপা রাণী ভক্ত বলেন, একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির রয়েছে শুনে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। দুই ধর্মের মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে দেখে তার ভালো লেগেছে। এই সম্প্রীতি শুধু নড়াইলে নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান বলেন, নামাজের সময় মন্দিরের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে আবার পূজা-অর্চনা শুরু হয়। পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ বন্ধন অটুট থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
মহিষখোলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শুভংকর সরকার বলেন, দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি থেকে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছেন। একে অপরকে সহযোগিতা করেন, তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আগামী প্রজন্মও এই সম্প্রীতির ধারা বজায় রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে মহিষখোলার এই আঙিনা হয়ে উঠেছে সম্প্রীতির প্রতীক। আজান ও উলুধ্বনি পাশাপাশি বয়ে চলা এই পরিবেশ প্রমাণ করে, ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষও সৌহার্দ্য ও মানবিকতার বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করতে পারেন।