রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে 'সংযুক্তিতে' (ডিপুটেশন) পদায়নের জন্য গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী তদবির সিন্ডিকেট। কোনো ধরনের প্রশাসনিক পদ বা পদের চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক শুধুমাত্র ঢাকায় থাকার জন্য ঢাকার বাইরের হাসপাতাল ছেড়ে প্রেষণে চলে আসছেন। এতে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে এবং রোগীরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে রাজধানীতে ভিড় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই সংযুক্তি বা ডিপুটেশন বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা পদের ঘাটতি থাকলে সেখানকার পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠাবেন এবং সেই অনুযায়ী পদায়ন হবে। তবে বাস্তবে চাহিদাপত্র ছাড়াই সরাসরি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে বিশালসংখ্যক চিকিৎসককে ঢাকার বিভিন্ন নামি হাসপাতালে সংযুক্তিতে পাঠানো হচ্ছে। সাবেক সরকারের আমলেও যেমন এই সংস্কৃতি সক্রিয় ছিল, বর্তমানেও তা অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকার বাইরে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনিসহ নানা বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। অনেক সময় প্রেষণে বা বদলি সূত্রে জেলা-উপজেলায় নিয়োগ দেওয়া হলেও চিকিৎসকরা নানা অজুহাতে সপ্তাহে দু-একদিন কর্মস্থলে থেকে বাকি সময় ঢাকায় কাটাচ্ছেন। এর ফলে গ্রাম ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ও জটিল রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঢাকার সরকারি ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন।
রোগীর এই উপচে পড়া চাপের কারণে ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে সিট বা বেড পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে ভর্তির জন্য রোগীদের সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ চড়া খরচে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন। একাধিক হাসপাতাল পরিচালকের মতে, রেফারেল সিস্টেম চালু করা এবং চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলকভাবে কয়েক বছর ঢাকার বাইরে সেবা দেওয়ার নিয়ম নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর ওপর এই চাপ অর্ধেকের বেশি কমে যেত।
বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে অন্তত ১৭৪ জন চিকিৎসক সংযুক্তিতে রয়েছেন, যাদের বড় অংশেরই কোনো জরুরি প্রয়োজনীয়তা ছিল না। একইভাবে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে শিক্ষক-সংকটে ভোগা অন্য একটি মেডিকেল কলেজ থেকে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের দুজন চিকিৎসককে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংযুক্তিতে এনে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রেষণ ও সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হচ্ছে। দ্রুতই সবার সংযুক্তি আদেশ বাতিল করে তাদের ঢাকার বাইরের কর্মস্থলে ফেরত পাঠানো হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সুমন নাজমুল জানান, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট কাটাতে একটি বড় তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত তাদের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ দেওয়া হবে।
সংযুক্তির দাপট: প্রেষণে ঢাকায় আসতে চিকিৎসকদের তদবির সিন্ডিকেট, প্রান্তিক চিকিৎসাসেবা চরম ব্যাহত
রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে 'সংযুক্তিতে' (ডিপুটেশন) পদায়নের জন্য গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী তদবির সিন্ডিকেট। কোনো ধরনের প্রশাসনিক পদ বা পদের চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক চ
প্রিয় বাংলাদেশসারা দেশ


