সরকারের কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচিতে স্বস্তি ফিরেছে দেশের ১৪ লাখের বেশি প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন। তাঁদের ঋণের বিপরীতে সরকার পরিশোধ করেছে ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে নতুন করে ব্যাংকঋণ পেতে সমস্যায় পড়া কৃষকেরা এখন আবার প্রাতিষ্ঠানিক ঋণসুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে কৃষিকাজের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি কৃষক এ সুবিধা পেয়েছেন। ব্যাংকটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জনের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা মওকুফ করেছে। বাকি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৮০৩ জন কৃষক অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে সুবিধা পেয়েছেন।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ এ উদ্যোগকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় আর্থিক সহায়তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ঋণ মওকুফের পাশাপাশি কৃষি উপকরণে ভর্তুকি ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
যশোরের কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, ঋণের চাপ তাঁদের দীর্ঘদিন দুশ্চিন্তায় রেখেছিল। ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে কেউ কেউ বাড়ির গাছ কিংবা গবাদিপশু বিক্রির কথাও ভেবেছিলেন। মওকুফের সিদ্ধান্ত তাঁদের সেই সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকও কৃষি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এ খাতে বিতরণ করা হয়েছিল ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ঋণের বোঝা কমে যাওয়ায় কৃষকেরা উৎপাদনে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যাংকঋণের প্রবাহ বাড়লে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ঋণসুবিধার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় ও বাজার ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।