হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও কাজের ধরন নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নেপাল সরকার। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করতে যাওয়া বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বহু শহর ও গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যাকবলিত এলাকায় সাংবাদিকদের কাজের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল জারি করেছে।নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্গত এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈধ প্রেস পরিচয়পত্র রাখতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীদের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নির্ধারিত পথ এবং চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ অনুসরণ করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ কোনো এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তা মানতে হবে।

অনুমতি ছাড়া সক্রিয় উদ্ধার এলাকায় প্রবেশ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা যাবে না এবং নিষিদ্ধ বা সীমিত অপারেশন এলাকায় প্রবেশ করা যাবে না। সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম না করা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে হিমালয় সীমান্ত অঞ্চল থেকে নেমে আসা ভোতেকোশি নদীর পানিতে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।

এদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য আলাদা নির্দেশনা দিয়েছে নেপালের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ। গত ৩ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নোটিশে বলা হয়, ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বন্যাকবলিত এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে বিদেশি সাংবাদিকদের অনলাইনে ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন’ এবং সাংবাদিক পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে।আবেদনের সঙ্গে বৈধ ভিসা বা প্রবেশ অনুমতিসহ পাসপোর্টের কপি, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগে দেওয়া সুপারিশপত্র এবং নিজ দেশের দূতাবাস, কনস্যুলার অফিস অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি সাংবাদিকদের দেওয়া ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন’ ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।