ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গৃহবন্দি থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তিনি এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।


মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে আহমাদিনেজাদের কার্যালয় জানায়, মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জনমত বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আহমাদিনেজাদ গৃহবন্দি রয়েছেন—এমন দাবিও সম্পূর্ণ মনগড়া। কার্যালয়ের ভাষ্য, পত্রিকাটির ‘অযৌক্তিক’ অভিযোগকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতেই এ ধরনের তথ্য প্রচার করা হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস প্রচারিত সম্পূর্ণ মিথ্যা সব অভিযোগ আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’


সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোসাদ আহমাদিনেজাদকে ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল এবং তাকে ভবিষ্যতে ইরানের নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরাইলের প্রাথমিক হামলার পর দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ ছিল এই উদ্যোগ।


পত্রিকাটির দাবি, মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল গোপনে আহমাদিনেজাদের বাসস্থান ও ভ্রমণ ব্যয় বহন করেছিল। এছাড়া বুদাপেস্টসহ বিভিন্ন বিদেশ সফরের সময় ইসরাইলি অপারেটিভরা তার সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন।


প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের শুরুর সময় মোসাদ তেহরান থেকে আহমাদিনেজাদকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সরকারকে উৎখাত করে তাকে নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।   এতে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে চালানো এক ইসরাইলি বিমান হামলায় তার দেহরক্ষীদের ব্যবহৃত একটি ভবন এবং সাঁজোয়া গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


চারজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হামলার পর একটি কালো পিউজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে নিয়ে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি আরও দাবি করে, গাড়িটি মোসাদের সদস্যরা চালাচ্ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো তিনি প্রকাশ্যে আসেন। সে সময় তিনি প্রয়াত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেন।