দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি দাবি করেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের যোগসাজশে ইরানকে দায়ী করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অপারেশন হিসেবে সাজানো হয়ে থাকতে পারে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনা থেকে জনমত সরানো এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করাই এমন পরিকল্পনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের পরিবেশ তৈরির চেষ্টাও থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে দাবি করে নানা বক্তব্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল এ ধরনের ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ তত্ত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটটি মাঝ আকাশে গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে পড়ে। ফ্লাইটটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। এর আগে বিমানের কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান। 
পাইলট আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৭ জন শিশু। 
ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এটিকে বিমান বিধ্বস্তের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ফ্লাইদুবাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন এবং আগাম কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষও ঘটনার পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য এবং কোনো সন্ত্রাসী যোগসূত্র ছিল কি না—তা তদন্ত করছে।
এদিকে প্রেস টিভির ‘ইরানকে ফাঁসানোর ছক’ সংক্রান্ত দাবি এবং ইসরায়েলের পাল্টা বক্তব্যের কারণে ঘটনাটি এখন বিমান নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিরও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।