দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইরাকের তেল বিক্রির অর্থের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা হচ্ছে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতনের পর যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতিতে যে আর্থিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, সেটিই এখনো বিভিন্ন কারণে বহাল রয়েছে।২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের পর ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ তহবিল ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল ইরাকের সম্পদকে আন্তর্জাতিক পাওনাদারদের দাবি থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনে অর্থ ব্যবহার করা।
পরবর্তীতে এই অর্থ ব্যবস্থাপনার কাঠামো ইরাকের আর্থিক লেনদেনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।ইরাক চাইলেই এই অর্থ অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্য মূলত মার্কিন ডলারে হওয়ায় দেশটির বৈদেশিক লেনদেনে ডলারের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। এর পাশাপাশি সাদ্দাম আমলের কিছু পুরোনো ঋণ ও আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতাও অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালান আটকে দিয়েছিল। এ ঘটনাকে তেহরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ তৈরির মার্কিন কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।বসরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ আহমেদ সাদ্দামের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হঠাৎ করে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করলে ইরাক নতুন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে পারে। তিনি বিকল্প হিসেবে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আলাদা হিসাব খোলার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে ইরাকের সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও এক নয়। কেউ কেউ মনে করেন, বিদেশি ব্যাংকের কঠোর নজরদারি না থাকলে বিপুল তেল রাজস্ব দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।ফলে ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ কোথায় ও কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি শুধু আর্থিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক ঋণ ও বৈদেশিক সম্পর্কও জড়িত।
ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ মার্কিন ব্যাংকে কেন জমা হয়
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইরাকের তেল বিক্রির অর্থের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা হচ্ছে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতনের পর যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতিতে যে আর্থিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, সেটিই এ
প্রিয় বাংলাদেশবিশ্ব


