বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ও গ্রাউন্ড নিউজ। তিন দিনের পরামর্শ বৈঠকে অংশ নিতে সম্প্রতি নয়াদিল্লি যান ত্রিবেদী। সেখানে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর সময়েই মোদি ও ত্রিবেদীর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে শেখ হাসিনার ৫ আগস্ট ভারতে প্রকাশ্যে অবস্থানের পর তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা কিছুটা থমকে যায়।চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমই তারেক রহমানের ভারত সফরের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে নয়াদিল্লির নীতি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্কের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার। দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো আলোচনার জন্য বিদ্যমান কাঠামো ব্যবহার করতেও ভারত প্রস্তুত বলে জানান তিনি।দুই দেশের মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে টানাপোড়েন দেখা দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু উদ্যোগও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্ভাব্য তারেক-মোদি বৈঠককে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
গত মাসে দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। তার মতে, সম্ভাব্য সফরের আগে বাণিজ্য, ব্যবসা, পানি বণ্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে যথাযথ প্রস্তুতি প্রয়োজন।প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমান ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। এছাড়া নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও অংশ নিয়েছেন তিনি। চলতি মাসের শেষ দিকে তার জাপান সফরের সম্ভাবনার কথাও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।তবে এখন পর্যন্ত তার সম্ভাব্য সফরসূচিতে ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর আগে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি।মোদি-ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে এখন পর্যন্ত ভারতের হাইকমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।