ট্রফি জয়ের স্বপ্ন সবারই থাকে, কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন দেখা যায় না—বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে এমনই হতাশা প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই ম্যাচ হেরে ফাইনালের আগেই বিদায় নেওয়ার পর নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন তিনি।
বুধবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ১৬০ রানে অলআউট হয় হৃদয়ের দল। জবাবে ৩৫.৩ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। এর আগে প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচে দুই হার নিয়ে শেষ হয় বাংলাদেশের সিরিজ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় বলেন, ‘যখনই আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপ খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই। এই ক্ষুধাটা সবার মধ্যেই আছে। কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, আমাদের কাজে সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না।’
ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতাকেই সামনে এনেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। নির্দিষ্ট কোনো বিভাগকে আলাদাভাবে দায়ী করতে না চাইলেও শেষ দুই ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। হৃদয়ের ভাষায়, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো জায়গার দিকে আঙুল তুলতে চাই না। তবে পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে, সমস্যা আমাদের ব্যাটসম্যানদের। শেষ দুই ম্যাচে আমরা খুবই বাজে ব্যাটিং করেছি। আর সে কারণেই পুরো দলকে ভুগতে হয়েছে।’
লিটন দাসের চোটে এই সিরিজে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া হৃদয় অবশ্য এক-দুই ম্যাচ দিয়ে পুরো দলের মূল্যায়ন করতে চান না। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মাটিতে বাংলাদেশ ভালো করেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে সর্বশেষ পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজের চারটিতে জিতেছিল দলটি। দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্য পেলেও জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে হারের মুখ দেখতে হয় বাংলাদেশকে।
দেশের বাইরে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা স্বীকার করে হৃদয় বলেন, ‘এক-দুটি ম্যাচ বা সিরিজের ভিত্তিতে দলের কী হয়েছে, সেটা বলতে চাই না। দল ভালো অবস্থাতেই আছে। তবে আমি আগেও বলেছি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে আমাদের ব্যাটিং খুবই খারাপ হয়েছে, সেটা স্পষ্ট।’
ঘরের মাঠে ব্যাটসম্যানদের ভালো করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে যখন খেলেছি, আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছে। কিন্তু দেশের বাইরে যেসব জায়গায় আমরা সমস্যায় পড়ছি, সেগুলোতে অবশ্যই উন্নতি করতে হবে।’
ভিন্ন কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দেশের বাইরের কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ তার মতে, এ ক্ষেত্রে উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের হতাশা কাটিয়ে আগামী বছর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। হৃদয় বলেন, ‘ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে বসতে হবে, দলকে ভালো একটা অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। কারণ আমাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আশা করি, আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’




