কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভিএআর রেফারি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন মেক্সিকান রেফারি ফার্নান্দো গেরেরো। সেই গেরেরো এবার মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে ভিএআরের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, মিশরের বিপক্ষে রেফারিংয়ের কারণে বিশ্বকাপ কলঙ্কিত হয়েছে। ভিএআরের ভুলে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচ ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

নাটকীয় এই ম্যাচে ভিএআরের মাধ্যমে মিশরের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গেরেরোর মতে, ভিএআর প্রোটোকল ভুলভাবে প্রয়োগ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিশর, যা শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুতেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলে দিয়েছিল মিশর। পরে ম্যাচে একটি গোল বাতিল হয় আফ্রিকান দলটির। ওই সিদ্ধান্তই এখন তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ ম্যাচের পর থেকেই রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এবার সেই বিতর্কে যোগ দিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অভিজ্ঞ রেফারি গেরেরো।

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে গেরেরো লিখেছেন, ‘রেফারি এবং ভিএআর- দুজনই ভুল করেছেন। সালাহর (মূলত হবে হবে, মোস্তফা জিকো) গোল বাতিল করা উচিত হয়নি।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, যদি রেফারি এটিকে ফাউল হিসেবেও বিবেচনা করেন, তবুও সেটি ভিএআরের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার আওতায় পড়ার কথা নয়। কারণ, ফিফার অ্যাটাকিং পজেশন পেজ (Attacking Possession Phase বা APP) প্রোটোকল অনুযায়ী আক্রমণকারী দলের গোলের আগে যে আক্রমণ শুরু হয়, তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকলেই কেবল আগের ঘটনা পর্যালোচনা করা যায়। গেরেরোর মতে, ওই ঘটনায় আর্জেন্টিনা বল হারানোর পর আবার বল পুনরুদ্ধারের জন্য যথেষ্ট সময়, জায়গা এবং সুযোগ পেয়েছিল। তাদের রক্ষণভাগও তখন সংগঠিত অবস্থায় ছিল।

এমনকি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা তিনবার বল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ফলে আগের সম্ভাব্য ফাউলকে গোল বাতিলের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা ভিএআর প্রোটোকলের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তিনি আরও বলেন, ‘ভিএআরের হস্তক্ষেপ তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন আক্রমণের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট থাকে এবং বল হারানো দলটির পুনরায় বল দখলে ফেরার বাস্তব সুযোগ না থাকে। এখানে সেই শর্ত পূরণ হয়নি। তাই ভিএআর এবং রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে মিশর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের বিদায়েও এই সিদ্ধান্ত ভূমিকা রেখেছে।’