ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানকে বরোদায় পৌরসভার একটি জমি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে গুজরাট সরকারের অনুমোদন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি ৫৩ লাখ রুপি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটি বরোদা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (ভিএমসি) অধীন তান্দালজা এলাকায় অবস্থিত। মোট ৯৭৮ বর্গমিটার জমির মধ্যে ৫০০ বর্গমিটার আবাসিক ব্যবহারের জন্য পাঠানকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার তাঁকে মূল্যায়িত দামের চেয়ে কম দামে কিনতে হবে।
 ভিএমসি কমিশনার অরুণ মহেশ বাবু জানিয়েছেন, জমি বরাদ্দের বিষয়ে রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেছে। তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত চূড়ান্ত হয়নি। এটি প্রথমে পৌরসভার স্থায়ী কমিটি এবং পরে সাধারণ বোর্ডের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জমিটির প্রতি বর্গমিটারের অনুমোদিত মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার রুপি। সেই হিসাবে পুরো জমির আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ২০ কোটি ৫৩ লাখ রুপি। সরকারি আদেশে বাকি অংশের মূল্য নির্ধারণে ২০২৬ সালের ১৭ মার্চের মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।
২০১২ সাল থেকে জমি নিয়ে বিরোধ :
ইউসুফ পাঠান ২০১২ সালে নিজের পরিবারের বাড়ির পাশে থাকা জমিটি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা চেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জমিটি চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে ২০১৪ সালে গুজরাট সরকারের নগর উন্নয়ন বিভাগ প্রস্তাবটি নাকচ করে। সরকারি জমি বরাদ্দে প্রকাশ্য নিলাম বা দরপত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছিল। পরে জমিটি ঘিরে বিরোধ আবার সামনে আসে। ভিএমসির অভিযোগ ছিল, বরাদ্দের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও পাঠান জমিতে বেড়া দিয়ে দখলে রেখেছিলেন। 
২০২৪ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ তাঁকে জমির দখল সরানোর নোটিশ দেয়। এর বিরুদ্ধে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২৫ সালের আগস্টে হাইকোর্ট সরকারের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। পরে পাঠান আপিল করলেও ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে পাঠান তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং দলটির জাতীয় সহসভাপতি হন। দলটিতে যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই জমি বরাদ্দের বিষয়ে নতুন অগ্রগতি হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।