লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে শিরোপার অভাব নেই। বার্সেলোনার হয়ে অসংখ্য সাফল্য, আটবার ব্যালন ডি’অর জয় এবং আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ—সবই তার অর্জনের অংশ। কিন্তু নিজের ফুটবলজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মেসি গুরুত্ব দিয়েছেন অন্য এক বিষয়কে। তার কাছে সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো সময়, অনুশীলনের আনন্দ আর প্রতিদিন মাঠে ফেরার অনুভূতিও অমূল্য।
২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার গ্রহণের আগে স্পেনের ওভিয়েদোয় ইএফইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আর্জেন্টাইন তারকা। বার্সেলোনার জাভি, ইনিয়েস্তা ও পুয়োলদের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাদের দলটি শুধু সাফল্য অর্জন করেনি, ফুটবলকে মন থেকে উপভোগও করেছে।
মেসির মতে, শিরোপা জয়ের আনন্দের পাশাপাশি প্রতিদিনের অনুশীলন ও সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোও ছিল বিশেষ। সেই স্মৃতির কারণেই বার্সেলোনা তার কাছে ‘আমার জীবনের ক্লাব’। ক্লাব ছেড়ে পিএসজি হয়ে ইন্টার মায়ামিতে পাড়ি জমালেও পুরোনো শহরের প্রতি টান কমেনি তার। বার্সেলোনাতেই জন্ম তার তিন সন্তানের, ফলে ব্যক্তিগত জীবনেও শহরটির রয়েছে গভীর জায়গা।
ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের পরও জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ। ২০২২ সালে কাতারে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে করা গোলগুলোকে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর মধ্যে রাখেন মেসি। তার কাছে বিশ্বকাপ জয় ছিল প্রত্যাশারও ঊর্ধ্বে এক অভিজ্ঞতা।
কথায় কথায় বাবার স্মৃতিও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। গত আগস্টে প্রয়াত হোর্হে মেসি ছেলের পুরস্কার পাওয়ার খবরে খুশি হয়েছিলেন। ব্যস্ততার মধ্যেও তাকে ওভিয়েদোয় গিয়ে সম্মাননা গ্রহণ করতে বলেছিলেন। বাবার কাছ থেকে পাওয়া একটি শিক্ষা আজও মেসির চলার পথের সঙ্গী—ব্যর্থতা বা সাফল্য, কোনো এক জায়গায় আটকে থাকা নয়; আবার চেষ্টা করে যাওয়াই আসল।
নিজের পরিচয় ও উত্তরাধিকার নিয়ে মেসির বক্তব্যেও সেই মানসিকতার প্রতিফলন রয়েছে। সব ইচ্ছা পূরণ হয়নি, কিন্তু নতুন সুযোগ এলে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা তিনি কখনো ছেড়ে দেননি।




