ম্যাচ জিততে শেষ দিকে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল আরও ২১ রান, হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। এমন পরিস্থিতি থেকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে পাকিস্তান। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শাদাব খান ও হারিস রউফের অবিশ্বাস্য জুটিতে এসেছে এই জয়। ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল ২৪২ রান। কিন্তু রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে দলটি। টপ অর্ডারের পর মিডল অর্ডারও ভেঙে পড়ায় ১৫৪ রানেই নয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। তখন ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। 
তবে শেষ উইকেটে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন শাদাব খান। নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিনি ৯৬ বলে অপরাজিত ১১৩ রান করেন। ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ওয়ানডেতে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 
অন্য প্রান্তে শেষ ব্যাটার হারিস রউফকে সঙ্গে নিয়ে শাদাব গড়ে তোলেন অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি। সফল রান তাড়ায় ওয়ানডের দশম উইকেটে এত বড় জুটি এর আগে দেখা যায়নি। এই জুটির ওপর ভর করেই ১৭ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। এর আগে সফল রান তাড়ায় শেষ উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিল ৬৪। ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপে বার্মিংহামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেরিক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টস পাকিস্তানের বিপক্ষেই সেই জুটি গড়েছিলেন। 
এবার পাকিস্তান সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। তবে ম্যাচের শেষ দিকে শাদাবকে ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের জয়ের জন্য যখন ২১ রান প্রয়োজন, তখন ৪৫তম ওভারে গাস অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার শাদাবকে আউট দেন। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা উদ্‌যাপন শুরু করেন, এমনকি হাত মেলাতেও এগিয়ে যান। শাদাবও প্রথমে হতাশ হয়ে প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটতে শুরু করেছিলেন।
 শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেওয়ার কথা মনে পড়ায় সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। আলট্রাএজের রিপ্লেতে দেখা যায়, বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের কিনারা স্পর্শ করেছিল। ফলে আউটের সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং শাদাব ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। পরে হারিস রউফকে নিয়ে তিনি পাকিস্তানকে জয় এনে দেন।