ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ আগেই বিদায় নেওয়ার পর ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে আফগানিস্তান। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে দলটি। ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। তবে শুরু থেকেই আফগান বোলারদের চাপে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ হারায় দলটি। জিম্বাবুয়ের হয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ৬৮ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন।
 রায়ান বার্লের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। দুজনের মধ্যে ৬০ রানের জুটি দলকে সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিলেও পরে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ফজলহক ফারুকি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই শুরুতেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে আঘাত হানেন। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। পরে বিলাল সামি অভিজ্ঞ ব্যাটার ব্রেন্ডন টেলরকে ফিরিয়ে দেন। ৫৬ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। ২৭তম ওভারে মোহাম্মদ নবীর বলে বিলাল সামির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বার্ল। 
এরপর জিম্বাবুয়ের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়। নবী ও রশিদ খান নিচের সারির ব্যাটারদেরও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি। আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে রশিদ খান ৪১ রানে তিনটি উইকেট নেন। বিলাল সামি ২৭ রানে দুটি, ফারুকি ৪১ রানে দুটি এবং নবী ২৫ রানে দুটি উইকেট শিকার করেন। জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ইতিবাচক খেলতে থাকে আফগানিস্তান। ইব্রাহিম জাদরানের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে রান তোলেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। দশম ওভারে গুরবাজ ৬৮ রানের দলীয় সংগ্রহের সময় আউট হন। মাঝের ওভারগুলোতে জিম্বাবুয়ের বোলাররা রান তোলার গতি কিছুটা কমিয়ে আনেন। 
এ সময় সেদিকউল্লাহ আতাল মাত্র ছয় রান করে ফেরেন। তবে লক্ষ্য ছোট হওয়ায় আফগান ব্যাটারদের ওপর বড় কোনো চাপ তৈরি হয়নি। পরে অধিনায়ক রহমত শাহ জাদরানকে নিয়ে দলের জয়ের পথ সহজ করেন। ২৭তম ওভারে সিকান্দার রাজাকে দুটি বাউন্ডারি মেরে রান তোলার গতি বাড়ান তারা। রহমত ৪৩ রান করে আউট হলেও অপর প্রান্তে অবিচল ছিলেন জাদরান। শেষ পর্যন্ত ৩৫তম ওভারেই জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। জাদরান অপরাজিত থাকেন ৭০ রানে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশকে ৯৯ রানে হারিয়েছিল। ওই ম্যাচে ক্রেইগ আরভিন ৯৩ এবং ব্রেন্ডন টেলর ৮১ রান করেন। 
এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তান জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে এবং বাংলাদেশকে সাত উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। এই দুই ম্যাচে রশিদ খান মোট আটটি উইকেট নেন। ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জয়ের পর এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই নতুন সিরিজে মাঠে নামবে আফগানিস্তান। সূচি অনুযায়ী, প্রথমে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি এবং পরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। সব ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে শারজায়।