শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। ষষ্ঠীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুর্গাপূজা এদিন নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও পূজার মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা পায়। দেবী দুর্গার শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের মহিমা স্মরণ করে ভক্তরা প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য।
হিন্দু শাক্তধর্মে দেবী দুর্গা আদ্যাশক্তি, মহামায়া ও মহিষাসুরমর্দিনী হিসেবে পূজিত। তার দশভুজা রূপ শক্তির বহুমাত্রিক প্রকাশের প্রতীক। দশ হাতে ধারণ করা অস্ত্র অন্যায়, অশুভ ও অহংকারের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রামকে নির্দেশ করে। দেবীর সিংহবাহন সাহস ও বীরত্বের প্রতীক। মহিষাসুরের ওপর তার বিজয় সত্যের কাছে অসত্যের পরাজয় এবং শুভশক্তির জয়কে তুলে ধরে।
মহাসপ্তমীর বিশেষ আচার নবপত্রিকা পূজা, যা লোকমুখে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। ভোরে কলাগাছসহ নয়টি উদ্ভিদ একত্রে বেঁধে শাড়ি পরিয়ে নববধূর মতো সাজানো হয়। এরপর নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে পূজামণ্ডপে এনে গণেশের পাশে স্থাপন করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাসে এই নয়টি উদ্ভিদের সঙ্গে ব্রহ্মাণী, কালিকা, দুর্গা, কার্তিকী, শিবা, রক্তদন্তিকা, শোকরহিতা, চামুণ্ডা ও লক্ষ্মীর সম্পর্ক রয়েছে। অঞ্চল ও পূজাপদ্ধতিভেদে কিছু নাম ও পরিচয়ে পার্থক্য দেখা যায়।
মহাসপ্তমীর পূজায় নবপত্রিকা স্নান, মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবীর আবাহন, ফুল, ফল, ধূপ, দীপ ও নৈবেদ্য নিবেদনের মতো আচার পালিত হয়। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ।
দেবী দুর্গার আরাধনা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। মহিষাসুরমর্দিনী রূপ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস, সত্যের প্রতি অবিচল থাকা এবং দুর্বলকে রক্ষার শিক্ষা দেয়। অন্যদিকে নবপত্রিকা পূজা প্রকৃতি, উদ্ভিদ ও শস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে জীবনের সঙ্গে প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক তুলে ধরে। মহাসপ্তমীর প্রার্থনা—অশুভের বিনাশ হোক, শুভশক্তির জয় হোক। মানুষের মধ্যে জাগ্রত হোক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ। সবাইকে মহাসপ্তমীর শুভেচ্ছা। জয় মা দুর্গা।