ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারের সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।
১৪ অক্টোবর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে বাড়ির ভেতরে ও আশপাশের যেসব স্থানে মশা জন্মাতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মৃত্যু এবং স্বজন হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আপনজন হারানোর কষ্ট যারা অনুভব করেছেন, তারাই এ শোকের গভীরতা সবচেয়ে ভালো বোঝেন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বহু পরিবারকে এমন দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, স্কাউটস, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট ও রেড ক্রসের মতো সংগঠনে প্রায় ৪০ লাখ সদস্য রয়েছেন। এসব সংগঠনের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, আনাচকানাচ, বিভিন্ন পাত্র কিংবা আশপাশের খোলা জায়গায় পানি জমে থাকলে মশার প্রজনন হতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি অভিযান যথেষ্ট নয়; বাড়ি ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও নিতে হবে। ডেঙ্গুর টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিকা আবিষ্কৃত হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। এ কারণে মশার বংশবিস্তার রোধ ও প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলেই সরকার দেশের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে মানুষের মৃত্যু ও দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।