দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবীণ নাগরিক কর্মহীনতা, আয়সংকট, একাকিত্ব ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবীন-প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন উন্নয়নকর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ, পারিবারিক সচেতনতা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠতে পারে প্রবীণবান্ধব বাংলাদেশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টারের (রিক) ‘আইএসআইজিওপি’ প্রকল্পের সমাপনী ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণবিষয়ক পরামর্শ সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় গত আড়াই বছরের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আন্তঃপ্রজন্ম ক্লাব, এনজিও এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা।
জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) এবং হেল্পএইজ জার্মানির সহযোগিতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল প্রবীণদের আয়নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অংশগ্রহণ এবং পিছিয়ে পড়া প্রবীণ নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো। ঢাকার খিলগাঁও, নরসিংদী সদর ও পলাশ এবং পিরোজপুর সদর উপজেলায় গড়ে তোলা হয়েছে ৪৮টি আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব। প্রতিটি ক্লাবে ৫০ জন করে মোট ২ হাজার ৪০০ জন নবীন ও প্রবীণ সদস্য যুক্ত রয়েছেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্পটির জাতীয় সমন্বয়কারী গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রবীণ নারীদের অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও ক্লাবগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তর করে কার্যক্রম চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এম এম মাহামুদুল্লাহ জানান, সরকার ছয়টি জেলার ছয়টি ইউনিয়নে ওল্ডার পারসন ক্লাব গঠনের পাইলট প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য প্রবীণদের দীর্ঘমেয়াদি যত্ন নিশ্চিত করা। তিনি রিকের আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে বেসরকারি উদ্যোগের পাশে থাকার প্রত্যয় জানান।
সভায় প্রবীণদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, উপযোগী অবকাঠামো, বিনোদন, কর্মসংস্থান, পরিবহন, আইনি সহায়তা ও পর্যাপ্ত আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রবীণদের তথ্যভান্ডার তৈরি এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও এল্ডারলি কেয়ার ক্লাবের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান বলেন, দেশের সক্ষম ও সচ্ছল জনগোষ্ঠী সম্মিলিতভাবে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়ালে প্রবীণবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
সভায় রিকের সহকারী পরিচালক আসনান খান, খিলগাঁও আন্তঃপ্রজন্ম ক্লাব সমন্বয় কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না এবং প্রকল্প সমন্বয়ক খন্দকার রিয়াজ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।