৪২ বছরের পুরোনো বিধিমালা সংশোধন করে নতুন ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বিধিমালায় ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, উড়োজাহাজের নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচলের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছর পর বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন করে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের একত্র করা হয়েছে। বর্তমান সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই নতুন বিধিমালাকে অবশ্যই ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে।

একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধান নতুন বিধিমালায় যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তারাই সরকারের মূল অংশীজন। বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং ওভারহলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক মানের মেন্টেনেন্স ও রিপেয়ার ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া কেপটাউন কনভেনশনের শর্ত অনুসরণ করে বিমান-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অপ্রত্যাহারযোগ্য নিবন্ধন বাতিল এবং রপ্তানি অনুরোধের কর্তৃত্বপ্রদান সংক্রান্ত বিধিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও বিদ্যমান বিমানবন্দর সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সভায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। নতুন বিধিমালায় প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।