প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ও সুবিধাজনক সময় সাপেক্ষে অতি দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় জনবল নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

 মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রকল্পটিকে আরও টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত ও আইনি পরিমার্জনের কাজ করছে।


 জাদুঘর উদ্বোধনে বিলম্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাদুঘর পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য স্থায়ী জনবল কাঠামো ও অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন প্রয়োজন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ও বিধিমালা সংশোধনের কারণে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে নির্মাণ ও সংস্কারকাজ প্রায় শেষ। পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় জনবল নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে দ্রুত জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে। 


সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ১৫ জুলাই থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৪ জুলাই মধ্যরাতের পর শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে এবং ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ১৬ জুলাইয়ের আত্মত্যাগের পথকে আরও বেগবান করে। এসব ঐতিহাসিক ঘটনার চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং কর্মসূচিগুলো প্রচারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।