স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে গ্রিন টির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। স্বাদে কিছুটা তেতো হলেও এই পানীয়তে থাকা পলিফেনল, ক্যাটেচিন ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণ চায়ের তুলনায় গ্রিন টি তৈরির সময় চা পাতার অক্সিডেশন কম হওয়ায় এর কিছু প্রাকৃতিক উপাদান অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে শুধু গ্রিন টি পান করলেই সব রোগ দূর হবে কিংবা চিকিৎসকের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
গ্রিন টি ওজন নিয়ন্ত্রণে সামান্য সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা ক্যাফেইন ও ক্যাটেচিন শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় কিছুটা প্রভাব ফেলে। তবে ওজন কমানোর জন্য সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। পানীয়টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত গ্রিন টি পান করার সঙ্গে হৃদ্স্বাস্থ্যের নির্দিষ্ট কিছু ইতিবাচক সূচকের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের ঝুঁকিতে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে এবং একে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও গ্রিন টির উপাদান নিয়ে গবেষণা হয়েছে। পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণায় কিছু পলিফেনলের সম্ভাব্য ক্যানসারবিরোধী বৈশিষ্ট্য দেখা গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে গ্রিন টি ক্যানসার প্রতিরোধ করে—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। একইভাবে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা বা নারীদের হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে এর কার্যকারিতা নিয়েও আরও নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন। তাই এসব সমস্যায় গ্রিন টিকে নিশ্চিত সমাধান হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
শরীরে পানির চাহিদা পূরণেও গ্রিন টি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এতে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান করলে কারও কারও ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা বুক ধড়ফড় করতে পারে। আয়রন শোষণেও চায়ের প্রভাব থাকতে পারে, বিশেষ করে খাবারের সঙ্গে পান করলে। তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রিন টি পান করা এবং নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সহায়ক পানীয় হিসেবে গ্রিন টি উপকারী হতে পারে, কিন্তু সুস্থ থাকার মূল ভিত্তি হলো সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রয়োজনমতো চিকিৎসা।




