দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২২ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৫ জন রোগী। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—৪৬৩ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ২২৯ জন, সিলেটে ১২৫ জন, বরিশালে ৯১ জন, খুলনায় ৭০ জন, ময়মনসিংহে ৪৯ জন, রংপুরে ২৬ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন। এদিকে একই সময় থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জনে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ২৩ হাজার ৩২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মৃত্যুর হিসাবেও নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ—এই দুই শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১ হাজার ২২২ জনের মধ্যে ১০৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামের কারণে হয়েছে।
অন্যদিকে ১ হাজার ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এক দিনে এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক রোগীর তথ্য পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরছে। তবে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা এবং উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্যের ভিত্তিতেই পরিস্থিতির হালনাগাদ চিত্র জানা সম্ভব।