প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আকস্মিকভাবে পরিদর্শনে আসতে পারেন—এমন ধারণা থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাতভর চলে ধোয়ামোছা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। একই সঙ্গে বেড়েছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা। নতুন বেড কভার দেওয়া হয়েছে রোগীদের, সরবরাহ করা হচ্ছে ওষুধও। এতে বাড়তি সেবা পেয়েছেন হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা।
রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচির আগে বা পরে তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্য কোনো স্থান আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় প্রস্তুতি নেন স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ভেতরের আগাছা পরিষ্কার করা হচ্ছে। হাসপাতালের সামনে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি চলছে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মানিক জানান, রবিবার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ঘুরে টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধোয়ামোছা করা হয়েছে। পাশাপাশি সারাদিন অন্যান্য কাজও করা হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগীদের নতুন বেড কভার দেওয়া হয়েছে এবং ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতাও বেড়েছে।
হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মমতাজ বেগম বলেন, সোমবার থেকে চিকিৎসক, নার্স ও আয়ারা বারবার তার কাছে আসছেন। শারীরিক সমস্যার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ওষুধ দিচ্ছেন। বিষয়টি তাকে অবাক করেছে। লোকমুখে তিনি জানতে পেরেছেন, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে হাসপাতালে আসতে পারেন। এ কারণে রোগীদের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তার ধারণা।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান বৃদ্ধা রোগী সখিনা বেওয়া। তিনি বলেন, সোমবার সকাল থেকে হাসপাতালের লোকজন বারবার তার খোঁজ নিচ্ছেন। হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, চিকিৎসক, নার্স, আয়া, বিভাগীয় প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ ওয়ার্ডে অবস্থান করে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।