চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের আহ্বানে অনুষ্ঠিত অনলাইন সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সিন্ডিকেট সদস্যকে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সভায় যুক্ত থাকা এক সদস্য। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান জানান, তিনি পুরো সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে যতক্ষণ যুক্ত ছিলেন, ততক্ষণ চুয়েটের কোনো সিন্ডিকেট সদস্যকে সভায় অংশ নিতে দেখেননি। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় চার থেকে পাঁচজন সদস্য অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপাচার্য এ বিষয়ে সবাইকে জানাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে সিন্ডিকেট সভা সাধারণত সশরীরে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ কারণে কোনো সদস্য সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। তবে এবার পুরো সভা অনলাইনে আয়োজন করাকে প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুয়েটের সিন্ডিকেটে মোট ১৫ জন সদস্য রয়েছেন। সদস্যসচিবের দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তিনি আগেই রেজিস্ট্রার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে সদস্যসচিব হিসেবেও তিনি আর দায়িত্বে নেই।
সভা সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানান তিনি। সিন্ডিকেট সদস্য ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, পরিবারের সঙ্গে বান্দরবানে ছুটিতে থাকায় তিনি সভায় অংশ নিতে পারেননি। সভার বিষয়ে তাঁর কাছে হালনাগাদ তথ্যও নেই। আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি সভায় যোগ দিতে পারেননি। অন্য কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
সভা সম্পর্কে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। চুয়েটে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হলো। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরু করেন।
পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। বিক্ষোভ, মানববন্ধন, মিছিল ও কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গত ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করলে আন্দোলনকারীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রশাসনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ১৫ অক্টোবর তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফেরেন। এ অবস্থার মধ্যেই ১৬ অক্টোবর অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। তবে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে আন্দোলন চলতে থাকায় চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।