বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, দেশের কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করার উদ্দেশ্যে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৩.৮৫% (বা প্রায় ৫৪ শতাংশ) বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। 

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এই নতুন ‘কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’ ঘোষণা করেন। মোট ৬০,০০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে ২০,৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৩৯,৫০৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে। 

প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করতে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সার্টিফিকেট অথবা সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস ও মুরগির ছানা উৎপাদন, উট পালন এবং জৈব সার উৎপাদনের মতো নতুন নতুন বিষয়গুলোকে ঋণ সুবিধার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। 

মরিচ, শাকসবজি এবং বিভিন্ন বছরব্যাপী ফল (যেমন: কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা, লিচু ইত্যাদি) চাষের ক্ষেত্রে ফসল কাটার সময়ের ওপর ভিত্তি করে ঋণ বিতরণ ও ফসল সংগ্রহের নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষি ঋণ কর্মসূচির তদারকি জোরদার ও সঠিক ডেটা ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'ওয়েব-বেসড এগ্রি-ক্রিডিট এমআইএস সফটওয়্যার' উদ্বোধন করেছে। 

মূলত দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।