শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলেও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকবে। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকেরা পূজার ছুটি পাবেন, যা সাধারণত তাঁদের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয় করা হবে।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, বছরের শুরুতে ট্রেড ইউনিয়ন বা অংশগ্রহণ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি কারখানার জন্য ১৩ দিনের ছুটির তালিকা নির্ধারণ করা হয়। দুই ঈদে তিন দিন করে ছয় দিনসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসবের ছুটি এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। সাধারণত এ তালিকায় দুর্গাপূজার ছুটি রাখা হয় না।
৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে পাঁচ দিনের ছুটি রয়েছে। পরে ১২ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বেসরকারি শিল্পকারখানার সাধারণ ছুটির বিষয়ে শ্রম আইন অনুযায়ী মালিক ও শ্রমিকপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।
বিজিএমইএ গত বুধবার এক নির্দেশনায় শ্রম আইন ও বিধিমালা অনুসারে শ্রমিকদের উৎসব ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, বিজিএমইএর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত ছুটির সঙ্গে কারখানার ছুটির বিষয়টি গুলিয়ে ফেলায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরে ২২ অক্টোবরের ছুটি বাতিল করা হয়। তবে শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের পূজার ছুটি নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে কাটা হলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে উৎসব ছুটি বলা যায় না।