মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার খবরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবরের মধ্যে রাখাইনের রাথেডং এলাকার আহ নাউক পিয়িন গ্রামের বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে নতুন করে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের সংখ্যা ও পরিস্থিতির ব্যাপারে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, ওই এলাকার সীমান্ত দুর্গম পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
তিনি বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষা বিজিবির প্রধান দায়িত্ব। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বাহিনীকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। দেশের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিজিবি কাজ করছে। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, গ্রাম ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুত মানুষকে নিয়ন্ত্রিত শিবিরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ১৪ অক্টোবর আরাকান আর্মির প্রধানের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাতে আহ নাউক পিয়িন গ্রামের রোহিঙ্গাদের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে গ্রামের ৫১ জনকে অপহরণের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া জরুরি।
এর আগে মিয়ানমারে সংঘাতের সময় প্রাণ বাঁচাতে বহু রোহিঙ্গা নাফ নদী ও স্থলসীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে দেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানের মধ্যে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঘটলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
সীমান্তের ১,৪২৫ পূজামণ্ডপে বিজিবি
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১ হাজার ৪২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকায় রয়েছে ১৮৩টি মণ্ডপ। এসব স্থানে দ্রুত সহায়তা পৌঁছাতে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে গঠন করা হয়েছে মনিটরিং সেল। গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। বিজিবি জানিয়েছে, পূজামণ্ডপের অবস্থান, যাতায়াতের পথ ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো যায়।




