গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে তা যাচাইয়ের পাশাপাশি দ্রুত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পার্বত্য জেলা পরিষদ অথবা বিএনপির স্থানীয় নেতাদের অবহিত করতে বলেছেন তিনি।
শনিবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মীর হেলাল বলেন, সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধান করা গেলেও রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রংধনু জাতি’ গঠনের ধারণা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মিলন ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে এই দর্শনের প্রতিফলন ঘটছে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং সবার সমান অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ যেন গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারে, সে জন্য সরকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় সরকারি সহায়তা বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে কঠিন চীবর দান ও প্রবারণা পূর্ণিমাসহ অন্যান্য ধর্মীয় আয়োজনের জন্যও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত পিএসসি, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
পরে পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে রাঙামাটির ৪৭টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রতিমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।




