বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কবি এনামূল হক পলাশ। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে দেশের সংস্কৃতির ঐতিহ্য থেকে তাকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরের কাশবাগানে আয়োজিত ‘শরৎ উৎসব ১৪৩৩’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা শহীদ সন্তোষ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। কথা, কবিতা ও গানের এ আয়োজনে জেলার বিভিন্ন এলাকার কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন।
বাংলাদেশের সংস্কৃতির রূপরেখা নিয়ে আলোচনায় এনামূল হক পলাশ বলেন, জনগণের সংস্কৃতিই গ্রহণযোগ্য। বৌদ্ধ সহজিয়া সাধু, সুফি, চৈতন্য, লালন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল—সবাই দেশের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাউকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়।
শহীদ সন্তোষ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি পলাশ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ শহীদ খান। কবি বিদ্যুৎ সরকারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন কবি লোকান্ত শাওন, অনিন্দ্য জসিম, বকুল মাস্টার, দুনিয়া মামুন ও সজীম সাইমসহ অন্যরা।
শিশুদের নৃত্যের মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়। পরে ‘সবুজ সুরের সন্ধানে’ রিয়েলিটি শোর প্রথম আসরের শীর্ষ দশে থাকা শিল্পী মিজানুর রহমান কাঞ্চন ও তার দল সংগীত পরিবেশন করেন। গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও সংস্কৃতিবিষয়ক আলোচনা ঘিরে নদীর তীরের প্রাকৃতিক পরিবেশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।




