সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহেদুজ্জামান শামীমকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিলের করা মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হওয়ার পর এজাহারভুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোক্তার আলী (৫২) ও আসাদুল ইসলাম মোল্লা (৪৬)। দেবহাটা থানার ওসি এইচএম শাহীন জানান, মোক্তারকে বৃহস্পতিবার রাতে সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাড়ি থেকে এবং আসাদুলকে শুক্রবার সকালে নাজিরের ঘের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শামীমের বাড়িতে হামলা হয়। এরপর তিনি বিষ পান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে কুলিয়া বাজারের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একদল লোক ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা বন্ধ করতে চাপ দেয় এবং শামীমকে মারধর করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতের দিকে কয়েক শ লোক হাসপাতাল ঘেরাও করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং ওয়ার্ডে ঢুকে শামীমের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।
মামলার বাদী আব্দুল জলিলের অভিযোগ, মামলা না করতে তাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। শামীমের ছোট ভাই তাহসিভ রহমান সাগরও দাবি করেছেন, মামলা দায়েরের পর তাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান ভিডিও বার্তায় এ হত্যাকাণ্ডে দলের কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের নেতা-কর্মীদের নাম জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।