পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসা, বাড়ি ও সম্পত্তি থেকে পাওয়া আয়ের একটি অংশ দুই হুন্ডি ব্যবসায়ী এবং বেনাপোলের একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থ পাঠানোর এই প্রক্রিয়ায় নানকের তিন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সমন্বয় করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানক জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। পরে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতের শিলংয়ে প্রবেশ করে মালদা হয়ে কলকাতায় যান। তার দেশত্যাগের পরিকল্পনায় মেয়ে রাখির স্বামী ডা. নাজমুল ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনটির দাবি, কলকাতার তপসিয়া এলাকায় আগে থেকেই একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া ছিল। সেখানে স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছেন নানক। বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে হুন্ডির মাধ্যমে তার কাছে অর্থ পাঠানো হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর নানকের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি দেখভাল করছেন। ৫ আগস্টের পর আন্দোলনের মুখে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়লেও আগের দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর সদর রোড ও কাঠপট্টি এলাকার দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ভারতে অর্থ পাঠানো হয়। তাদের একজন হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং অন্যজন স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি ব্যবসা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন ভবনের ভাড়ার অর্থ তাদের হাতে দেওয়ার পর তা পশ্চিমবঙ্গে রুপিতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার তিনটি বাড়িসহ বিভিন্ন ব্যবসা ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের একটি অংশ বেনাপোলের একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঢাকার আয় পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর বিষয়টি নানকের এক ছোট ভাই দেখভাল করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে নানকের ২০০৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামার সম্পদের হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৮ সালে নিজের ও স্ত্রীর মিলিয়ে ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছিলেন নানক। ২০২৪ সালের হলফনামায় তাদের সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি টাকা দেখানো হয়।
প্রতিবেদনটির দাবি, হলফনামায় বরিশালের নথুল্লাবাদে থাকা ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, দোয়ারিকা সেতু এলাকায় প্রায় ৮ একর জমিসহ আরও কিছু সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন ভবন, জমি ও অন্যান্য সম্পদ নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়েছে, বরিশালের বটতলা, রুপাতলী, মতাসার, সার্কুলার রোড ও করিম কুটিরসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা সম্পত্তি থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় হচ্ছে। এসব আয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ মিলিয়ে মাসে কোটি টাকার বেশি অর্থ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশে ফেরা আওয়ামী লীগের এক কর্মীর বক্তব্যও প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। তার দাবি, নির্ধারিত এজেন্টরা তপসিয়ার ফ্ল্যাটে গিয়ে নানকের কাছে অর্থ পৌঁছে দেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে নানকের সঙ্গে বিভিন্ন ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
নানকের কাছে হুন্ডিতে কোটি টাকা যাওয়ার অভিযোগ, নেপথ্যে কারা
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসা, বাড়ি ও সম্পত্তি থেকে পাওয়া আয়ের একটি অংশ দুই হুন্ডি ব্যবসায়ী
প্রিয় বাংলাদেশসারা দেশ


