রাজধানীর বাজারে মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৫৭৫ টাকা থেকে কমে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমেছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলেও পরের সপ্তাহে সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আমদানিকারক ও বিক্রেতারা বলছেন, বন্দরে জাহাজ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কাটছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে মাল্টাবোঝাই কনটেইনার খালাসের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি কনটেইনার খালাস হলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যায়। মাল্টাবাহী জাহাজের রুট পরিবর্তন ও পৌঁছাতে বিলম্বের কারণেও বাজারে পণ্য আসার ব্যবধান বেড়েছিল। তবে সমুদ্রপথে থাকা জাহাজগুলো একের পর এক বন্দরে পৌঁছানোয় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
রাজধানীর ফলের পাইকারি বাজার বাদামতলীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা মাল্টার ১৫ কেজির কার্টন বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকায়। এতে পাইকারি পর্যায়ে কেজিপ্রতি দাম পড়ছে প্রায় ২৭৪ থেকে ২৯৪ টাকা। কয়েক দিন আগেও একটি কার্টন ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে; কোনো কোনো সময়ে দাম সাড়ে ৭ হাজার টাকায় উঠেছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পাইকারি দামের সঙ্গে পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি, দোকানভাড়া ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বেশি থাকছে। গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকায়। তবে একসঙ্গে বেশি কিনলে কোথাও কোথাও কেজিপ্রতি ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকায় মিলছে। টিকাটুলি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশের ফুটপাতেও ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকার মধ্যে মাল্টা বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরা পর্যায়েও তার প্রভাব পড়ে। তবে পণ্যের দাম একবার বেড়ে গেলে তা আগের পর্যায়ে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে পণ্য আটকে রেখে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, তা নজরদারির আওতায় আনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৬ টন মাল্টা আমদানি হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৩০ টন। অর্থাৎ চলতি বছরের ওই সময়ে মাসিক গড় আমদানি আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। আমদানিতে মোট শুল্কহার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ হওয়ায় এর প্রভাবও বাজারদামে পড়ে।
আমদানিকারকদের আশা, জাহাজ চলাচল ও পণ্য খালাস স্বাভাবিক থাকলে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং দাম স্থিতিশীল হবে। তবে আমদানি ব্যয়, উচ্চ শুল্ক ও পরিবহন খরচের কারণে মাল্টার দাম আরও কতটা কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।